ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহের পদাবলী : ১ম পর্ব

ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহের পদাবলী : বাংলার সুফি ফকিরদের মধ্যে লালনের স্থান সর্বোচ্চ, কিন্তু লালনের মৃত্যুর পরে যিনি সারা বাংলার ফকির মহলে লালনেরই মত উচ্চ স্থানলাভ করিয়াছিলেন, তিনি ফকির পাণ্ডু শাহ। লালনের মৃত্যুর অব্যবহিত পর হইতেই প্রায় পঁচিশ বৎসর যাবৎ পাঞ্জু শাহ অনেকটা লালনের শূন্যস্থান পূরণ করিয়া রাখিয়াছিলেন। লালনের মত তাঁহার রচিত গান বাংলার সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং ফকির মহলে বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে গীত হয়।

ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহের পদাবলী - ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহ
ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহ

 

১২৫৮ সালের শ্রাবণ মাসে ফকির পাঞ্জু শাহ যশোহর জেলার শৈলকূপা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ইনার পিতার খাদেমালী খোন্দকার সাহেবের ইনি প্রথম পুত্র।

ইনার পিতা একজন সঙ্গতিপন্ন লোক ছিলেন। কু-চক্রীর ষড়যন্ত্রে উত্যক্ত হইয়া বিষয় বিভব তুচ্ছবোধে ইনি স্বীয় স্ত্রী ও বালক পুত্রসহ যশোহর জিলার হরিণাকুণ্ডু থানার অধীন হরিশপুর গ্রামের বিশিষ্ট সম্ভ্রান্ত, অবস্থাপন্ন বিশ্বাস পরিবারের মাননীয় ফকির আহম্মদ বিশ্বাস দিগর সাহায্যে ও আন্তরিক সহানুভূতি পাইয়া উক্ত হরিশপুর গ্রামে দরিদ্রভাবে বসবাস করেন। তাঁহার আত্মসম্মান জ্ঞান ও দ্রতায় তিনি গ্রামস্থ সকলের শ্রদ্ধাভাজন হন।

ফকির পাঞ্জু শাহের পিতা একজন গোঁড়া মুসলমান ছিলেন। শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানে (Formalities) নিষ্ঠাবান হইয়া ইনি বাংলা ভাষা শিক্ষারই বিরোধী হন এবং স্বীয় পুত্রকে আরবি, ফারসি ও উর্দু শিক্ষাদানে প্রবৃত্ত হন। ১৫/১৬ বৎসর বয়সে ফকির পাঞ্জু শাহ গোঁড়া পিতার ভয়ে, বিশ্বাস পরিবারের মহরালী বিশ্বাসের নিকট স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া গোপনে বাংলা ভাষা শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন।

তৎকালে হরিশপুর গ্রাম বিশেষ সমৃদ্ধ ছিল। সকল শ্রেণীর হিন্দু-মুসলমান পরস্পর মিলিতভাবে বসবাস করিতেন। সুফি ফকিরের মধ্যে জহরদ্দীন শাহ, পিজিরদ্দীন শাহ, ফকির লালন শিষ্য দুধ মল্লিক শাহ, (দুদ্দু শাহ) প্রমুখ সুফিতত্ত্ববিদ সাধু ও হিন্দুদের মধ্যে মদন দাস গোস্বামী, যদুনাথ সরকার, হারাণ চন্দ্র কর্মকার, প্রমুখ সমবেতভাবে বৈষ্ণব সাহিত্য বেদান্ত, ইসলামের সু-উচ্চ তাছাওয়াফের গভীর তত্ত্ব আলোচনা করিতেন। প্রায়ই সুফি ফকির ও বৈষ্ণবগণ সুফিমতবাদ ও বৈষ্ণব তত্ত্ব গান ও সিদ্ধান্ত আলোচনায় তৃপ্তিলাভ করিতেন।

বাউল
বাউল

এই সমস্ত বিষয় ফকির পাণ্ডু শাহের পিতা পছন্দ করিতেন না। ঐ সংশ্রবে যাতায়াত বা ওঠা-বসা নিষেধ সত্ত্বেও পাণ্ডু শাহ গোপনে যাতায়াত করিতেন। কখনও ইহা প্রকাশ পাইলে ইহার লাঞ্ছনার সীমা থাকিত না। এইভাবে পিতা বর্তমান থাকা পর্যন্ত তাঁহার মনোকষ্টের ভয়ে ইনি সঙ্গোপনে গভীর আগ্রহ সহকারে সুযোগমতে সাধুসঙ্গে সময় কাটাইতেন। ২৪/২৫ বৎসর বয়সে ইঁহার বিবাহ। ১২৮৫ সালের ২০ ভাদ্র ইহার পিতা পরলোক গমন করেন।

পিতার মৃত্যুর কিছুদিন পর ইনি খেরকা খেলাফত ধারণ করেন। এই সময় হইতেই তাঁহার ধর্মজীবন আরম্ভ হয়। হরিশপুর গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে হেরাজতুল্যা খোন্দকার নামে সুফিতত্ত্ববিদ সাধুর নিকট ইনি দীক্ষিত হন। ইনি গুরুনিষ্ঠা ও গুরুর সেবাযত্নে একান্ত আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রায় ৩৩/৩৪ বৎসর হইতেই ধর্মানুরাগ জ্ঞান গরিমায় মুগ্ধ হইয়া ২/৪ জন করিয়া ইহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিতে থাকে। এই সময় ইনি ইস্কি ছাদেকী গওহর নামে একখানি কেতাব রচনা করেন এবং সুফি মতবাদ সম্বন্ধীয় গান রচনা করিতে আরম্ভ করেন। ক্রমেই দেশ-দেশান্তরে শিষ্য সংখ্যা বর্ধিত হইতে থাকে। নিজ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, নদীয়া, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সুদূর আসাম বিভাগেও অনেকে ইঁহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। আজিও বাংলার বহু স্থানে ইহার রচিত পদাবলী আগ্রহ সহকারে গীত হয়। জীবনে অক্ষয় কীর্তি রাখিয়া ১৩২১ সালে ২৮ শ্রাবণ, ৬৩ বৎসর বয়সে ইনি পরলোক গমন করেন।

সং হতভাগ্য মধ্যম পুত্র
খোন্দকার রফিউদ্দিন সাং-হরিশপুর, পো: সাধুগঞ্জ, জেলা: যশোহর।

বাটিক প্রিন্টিং এ বাউলচিত্র

Table of Contents

 

ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহের পদাবলী

১। দীনের রাছুল এসে, আরব শহরে দীনের বাতি জ্বেলেছে।।

দীনের রাছুল এসে, আরব শহরে দীনের বাতি জ্বেলেছে।। দীনের বাতি রাছুলের রূপ উজালা করেছে।। মহম্মদ নাম নূরেতে হয়, নবুয়তে নবী নাম কর, রাহুল উল্লা ফানা ফিল্লাহ, আল্লাতে মিশেছে।। মহম্মদ হন সৃষ্টিকর্তা, নবী নামে ধর্ম দত্তা, শরিয়তের ভেদ ওতে রেখে শরা বুঝায়েছে।। জাহেরা ভেদ জাহেরাতে, আশেকের ভেদ পুসিদাতে, মহর নবুয়ত আশকদারকে দেখায়ে দিয়াছে।। রাজুল রূপ যার মনে আছে, মনের আঁধার মুচে গেছে, অধীন পাণ্ডু ভাব না জেনে ভ্রমেতে ভুলেছে।।

২। জীব তরা’তে তরিকের কিস্তি নবী ঘাটে এসেছে।।

জীব তরা’তে তরিকের কিস্তি নবী ঘাটে এসেছে।। গোনাহ গারে নিবেন পারে তরিক যে ধরেছে।। নবী দিচ্ছে তরিক জাহের, পুসিদাতে ভেদ হয় খোদা, পুসিদা তরিক রাছুল ছিনাতে দিয়াছে।। বেহেস্ত পাবে তরিক জাহেরা, পুসিদাতে পারে খোদা, আশকদারে খোদার জন্য বেহাল হয়েছে।। বেহেস্তের আশা দোজখের ভয়, আশকদারের মনে না হয়, আল্লাপানে অহনিশি চাহিয়া রয়েছে।। মজবুত তরিক এই হয়, তরিক কিস্তি আশেকে পায়, অধীন পাণ্ডু ভাব না জেনে ভ্রমেতে ভুলেছে।।

৩। নবী চিনা হল ভার।।

নবী চিনা হল ভার।। নবী না চিনিলে ভবে কেমনে হইবে পার।। জেন্দা থেকে না পাইলে মলেত পাবানা আর।। খবর শুনি আরবেতে নবী হলেন এস্তেকাল, হায়াতেল মোরছালিন বলে কেনে লিখেন পরওয়ার।। দেখে শুনে অনুমানে দেলে ধাঁধা হয় মনে বলে নবী ম’লে দুনিয়া রইত না আর।। আছে সত্য নবী বর্ত চিনে কর রূপ নেহার, নিরুচাঁদের চরণ ভুলে পাণ্ডু হল ছারেখার।।

৪। নবী চিনে কর ধ্যান।।

নবী চিনে কর ধ্যান।। আহম্মদে আহাদ মিলে আহাদ মানে ছব্বাহান।। আতিউল্লাহ আতিয়ররাছুল দলিলে আছে প্রমাণ।। আল্লার নূরে নবীর জন্ম নবীর নূরে ছারে জাহান, নূরে জানে আদম তনে বসত করে বর্তমান।। আওল আখের জাহের বাতেন চারিরূপে বিরাজমান, বাতেনে গোপনে থেকে জাহেরে দেন তরিক দান।। তরিক ধন সাধন কর আখেরে পাবা আসান, বর্তমানে নাহি জেনে পাণ্ডু হয় হতজ্ঞান।।

৫। দীনের কথা মনে যার হয়।।

দীনের কথা মনে যার হয়।। আগে দেল কেতাবের খবর লয়।। মুরশিদ ধরে দেশের খবর জেনে শুনে ফানা হয়।। শরিয়ত তরিকত, হকিকত মারেফত, মুরশিদের হয়ে গত সুধাইয়া লয়, লাহুত নাহুত মলকুত জবরুত, আল্লা কোথায় আছে মউজুদ, কোন মোকামে মালেক আল্লা, কোন মোকামে বারাম দেয়।। চার কালেমা চারি কলে, তৈয়ব কালমা মূল নিহারে, এমনি অমূল্য ধন, তাই খোঁজে সদায়, নূরী জহুরী জোব্বরী, ছত্তরী পিয়ালা চারি, কবুল করে হুশিয়ারী, রাখেনা সে কুলের ভয়।।

পাঞ্জাতন গুণমনি, জাহের বাতেনে শুনি, আলী নবী মা জননী, এযাম দোন ভাই, পাঞ্জাতনের মর্ম জেনে, পানজাগানা পড়ে মনে, সামনে মুরশিদ বরজখ ধ্যানে কদমেতে ছের ঝোকায়।। জবরুতের পরদা খুলে, দিবেন মুরশিদ দয়া করে, নূর ছেতারা উদয় হয়ে রূপে ঝলক দেয়, সদা থাকে রূপ নিহারে, দীনের কর্ম তারাই করে, পাঞ্জু বলে মোর কপালে, জানি কি করিবেন দয়াময়।।

৬। মালেক আল্লার আরশ কালেবেতে রয়।।

মালেক আল্লার আরশ কালেবেতে রয়।। খুঁজে দেখলিনা মন হায়রে হায়।। আছে কালেবেতে কালুবালা, কালাম উল্লায় জানা যায়।। কুলুবেল মুমেনিন বলে, কোরানে সাঁই খবর দিলে, দেখনা দুই নয়ন খুলে, ছাব্বিশ ছেপারায়, ছফিনাতে দেখে শুনে, ছিনার এলম লেহ জেনে ছিনার এলম ছফিনাতে;’ জানবে কেন দীন কানায়।। নবী আদম বারিতালা এক দমে হয় লীলা খেলা, দলিলে বলেছেন খোলা, রাছুল দয়াময়, নাফাকত ফিহে বলে, দেখনা হাদিছ দলিলে, দীন কানার কথায় ঘুরে মলে, পেড়পীড়ে মদিনায়।। আঠার হাজার আল্লার আলম, আঠার মোকামে মিলন, আরশ কোরশ লওহ কলম, অজুদে সবায়, এই কালোব মালেক আল্লা, চেঁচালে পড়িবে গলা, পাণ্ডু তমনি আলাঝালা, আছমানে চেয়ে খোদা চায়।।

৭। মাবুদ আল্লার খবর না জানি।।

মাবুদ আল্লার খবর না জানি।। আছে নির্জনে সাঁই নিরঞ্জন মণি।। অতি নিশুম ঘরে বিরাজ করে সাঁই গুণমণি, তথা নাহি দিবা রজনী।। যখন নাহি ছিল আছমান আর জমিন, অন্ধকারে হেমান্ত বাও বইছিল আপনি, সেই বাতাসে, গায়বী আওয়াজ হলো তখনি, তা জানেন জগৎ জননী।। সেই আওয়াজ ভরে ডিম্ব হয়। শুনি, ডিম্ব ভেঙ্গে আছমান জমিন গঠলেন রব্বানি, শুনি সাততালা আছমানের পরে রয়েছেন তিনি, আছে অচিন মানুষ অচিনি। সেই ডিম্বর খেলা আদমে খেলে, চেতন মুরশিদ চিনে ধরলে সে ভেদ জানাবে, পাণ্ডু বলে না ডুবিলে রতন কি মিলে, ডুবিলে হবি ধনি।

৮। শুধু কথায় রতন কি মিলে।।

শুধু কথায় রতন কি মিলে।। চেতন মানুষেরই সঙ্গ না নিলে।। আল্লা নবী আদম ছবি করেছে নিলে, দেখ কে আছে মন কি কলে।। সিংহাসনে বসে একেলা, ছাদেকী এস্ক পয়দা করলেন মালেক আল্লা, সেই এস্ক জোরে নূরে পয়দা করলেন রাছুলে, এসে দোস্তী করলেন দিলে।। সেই মহব্বতে আদম গঠিলে, হাওয়া আদম আল্লা নবীর ভেদ কেবা বলে, ভেদ জানিলে অধর মিলে এ ত্রিভুবনে, জানা যাবে মুরশিদ ভজিলে।। বেহেস্ত যাওয়ার আশা করিলে, দোজখ বেহেস্তের
খোন্দকার পাঞ্জু শাহের পদাবলী ॥ ১৪৭ মালেক যে জন তারে না চেনে, অধীন আঞ্জু বলে ভেদ না জেনে কলমা পড়িলে, শেষে পড়বিরে গোলেমালে।।

৯। আল্লার বান্দা কিসে হয়।।

আল্লার বান্দা কিসে হয়।। নবীর উম্মত হলে জানা যায়।। আল্লার বান্দা নবীর উন্নত এজগতে সবাই কয়।। আঠার হাজার আলমে আছে নব্বই হাজার কালাম তার, ছিনা সফিনা দুই ভাগে রয় ষাইট হাজার এই দুনিয়ায়, তিরিশ হাজার কালামে আহাদ; তার খবর আর কেবা পায়।। জেন্দগী ভর বন্দেগী করিতে মোরে সবায় কয়, গোলামী করিলে বান্দা হাদিসে তা জানা যায়, কিসে হয় আল্লার গোলামী খোলা নাই ভেদ ছফিনায়।। ভেদ জানিয়া নূর সাধিলে কালাম ছিনা হয় আদায়, সাধন বর্ত নূরে নীরে বর্জোখে ভজন তার, পাণ্ডু বলে আহাদ কালামে দয়া করবেন দয়াময়।।

১০। ফানা ফিল্লাহ্ হওরে মন।।

ফানা ফিল্লাহ্ হওরে মন।। দেখ বান্দা হওয়া ভেদ কেমন।। ফানা হয়ে জাতে মিশে আল্লারে কর সাধনা।। আদম জাতে ফানা হতে বলেছেন সাঁই নিরঞ্জন, আল্লার জাতে মিশলে তা’তে গোলামী না হয় একজন, জানতে হয় কোন জাতে ফানা কবুল করবেন মওলা ধন।। আদম রূপে ফানা হলে নাস্তি হল এ জনম, কোন জাতে কোন রূপে বাকা হয়ে ভজি সাঁইর চরণ, ছাদরাতল মস্তাহায় খোদা গোলামের হয় কোন আসন।। দাস্যপানা সাঁই রব্বানা আমায় করিবেন কবুল, যদি মিমেতে মশগুল করেন, আপে মহম্মদ রাছুল, হিরুচাঁদ কয় অধীন পাঞ্জ দিন থাকিতে লও স্মরণ।।

১১। শুধু কি আল্লা বলে ডাকলে তারে পাবি ওরে মন পাগেলা।।

শুধু কি আল্লা বলে ডাকলে তারে পাবি ওরে মন পাগেলা।। যে ভাবে আল্লাতালা বিষম লীলা ত্রিজগতে করছে খেলা।। কতজন জপে মালা তুলসীতলা, হাতে ঝোলে মালার ঝোলা, আরো কত হরি বলি মারে তালি নেচে গেয়ে হয় মাতেলা।। কতজন জয় উদাসী তীর্থ বাসি, মক্কাতে দিয়াছে মেলা, কেউবা মসজিদে বসে তাঁর উদ্দেশ্যে সদায় করছে আল্লা আল্লা।। স্বরূপে মানুষ মিশে স্বরূপ দেশে বোবায় কালায় নিত্য লীলা, স্বরূপের ভাব না জেনে চমর কিনে হচ্ছে কত গাজীর চেলা।। নিত্য সেবায় নিত্য লীলা, চরণ মালা, ধরা দিবে অধর কালা, পাঞ্জ তাই করে হেলা, ঘটল জ্বালা, কি হবে নিকাশের বেলা।।

১২। ভজ নিরঞ্জন, লায়লাহা ইল্লাল্লা পড় আমার মন।।

ভজ নিরঞ্জন, লায়লাহা ইল্লাল্লা পড় আমার মন।। বড় অমূল্য রতন, এ নাম নিদানের ধন।। যখন নাহি ছিল আছমান জমিন রে, ছিলেন একা মওলা ধন, বড় সাধ করিয়ে গঠলেন আল্লা থাকি আদম তন।। কে বুঝিতে পারে আল্লারে তোমারই মক্কর, বড় দোস্ত ছিল তোমার আজাজীল খাসতন, তাবেদার ছিল তার রে ফেরেস্তা যত জন, সেই আজাজীল দোষী হলো আদমের কারণ।। খাক হতে থাকি আদমরে গঠলেন আদম তন, কোন চিজেতে হাওয়া বিবি করিলেন সৃজন।।

মক্কর মাঝারুল্লা আল্লারে তারে খাওয়ালে গন্দম, গন্দম খেয়ে আশক জ্বালায় জ্বলে দুইজন।। আরফার মাঠে দোহায় রে করিলে মিলন, নূর নীরেতে করলে আল্লা সৃষ্টিরই পশুন, কে বুঝিতে পারে আল্লারে কুদরতের বিবরণ, পাণ্ডু বলে নূর সাধিলে পাইতাম চরণ।।

১৩। চেয়ে দেখ ভবের হাটে মনরে তোর ব্যপার হল কি।।

দেশ ছেড়ে বিদেশে আলি, দেশে যাবার উপায় কি।। হাকিম দিয়াছিল ধন, মন তোর লাভেরই কারণ, লাভে মূলে সব হারালি, হিসাবে ফাঁকি ঝুঁকি। যে ধন লয়ে ভবে এলে রে, তা চেন আমার মন, কিসে লভ্য হবে তার জান সে কারণ, মায়া দালালে ধরে, ফতুর করল যে তোরে, কলুর বলদের মত, ঠুসি দিল তোর চোখী।।

আশার একটি বাসা বেঁধে রে, ভবে করছি গোজরান, কোন দিন আশার বাসা ভেঙ্গে নিবেন মালেক ছবহান, ভাই বন্ধু যত জন, তোর কে হবে আপন, কেহ যে দরদের বেটা, মাটি দিবে তোর মুখি।। হাসরের মাঠে আল্লারে আপনি পরওয়ার, নেকী বদির হিসাব আল্লা করিবেন সবার, অধীন পাণ্ডু কেঁদে কয়, জানি কি হবে উপায়, পাষাণে ঠুকিবে মাথা হিসাবের কাগজ দেখি।।

১৪। দম টান মন দমের খবর জেনে।। 

দম টান মন দমের খবর জেনে।। দম থাকিতে দমবাজীতে ভুলে রইলি কেনে।। তিন দমের তিনটি ধারা, জানলে হয় জেন্দা মরা, আদমে অধর ধরা, দেখ জেনে শুনে, দিদম শনি দম গোপ্ত দমে নাম কর গোপনে।। দিদমে দেখ তারে, যে আনে ভবের পরে, পাঞ্জাতন সঙ্গে করে বসে সিংহাসনে, নূর ছেতারা ঝলক দিচ্ছে, দেখরে নয়নে।। শনিদয়ে সাধন কথা, শোন অমূল্য যথা, পাবা সাঁই জগৎ কর্তা গুরুর ধিরানে, পাঞ্জুর হল মুখের কথা, ভজন সাধনে।।

১৫। দম জেনে লও দমের মালা গলে।।

দম জেনে লও দমের মালা গলে।। আল্লা মহম্মদ আদমে একদমে তিন মিলে।। আদমে সাঁইজির খেলা, জপ দম দমের মালা, দূর কর তছবি মালা, মন মালায় ধন মিলে, মনের মানুষ দমে জপে বসাও হৃদকমলে।। আদমে দমের শুমার এক লাখ আর চৌত্রিশ হাজার, রাত দিনে জান খবর, চব্বিশ হাজার মূলে, ভুলে আল্লা এক দম ফেলা, মানা হয় দলিলে।। যে জপে দমের মালা, জানে সে কাবাতুল্যা, বয়তুল্লার ঘর আল্লাতালা দিবেন তার দেলে, তাই জানিতে অধীন পাপ্পু ফিরতেছে বদ হালে।।

১৬। আল্লার নামে মন ভোলে না দুনিয়াদারী ফাঁদে।।

আল্লার নামে মন ভোলে না দুনিয়াদারী ফাঁদে।। আজরাইল আসিয়া কোন দিন নিবে ধরে বেঁধে।। যে দিনে গোর আজাব হবে, দুনিয়ার মায়া কোথায় রবে, মনকীর নকীর, দেখে সেদিন মরবি কেঁদে কেঁদে।। রোজ হাসরে সূর্যের তাপে, তাপে সেতে মারা যাবে, সেই দিন মনে জানতে পাবে, কপালের নিষে।। আল্লাতালা কাজী হবে, নেকী বদির হিসাব নিবে, দুই ফেরেস্তা সাক্ষী দিবে, বসে বান্দার কাঁধে।। পোলঘুরাতে হিরার ধারে, বড় সঙ্কট হবে পারে, পাণ্ডু বলে পারের সম্বল, আছে হিরুচাদে।।

১৭। ভবে এসে রলাম বসে হারা হয়ে দিশে।।

ভবে এসে রলাম বসে হারা হয়ে দিশে।। পাছের কথা ভুলে রলাম দুনিয়াদারী বেশে।। কার সাথে এই ভবে এলম, আগে ছিলাম কোন দেশে, যার সাথে এসেছি ভবে তারে পাব কিসে।। সাথের সাথী হারা হয়ে, ভুলে রলাম রঙ্গ রসে, আলাভোলায় পথ ভোলালো, ভূতে মারবে ঠেশে।। সঙ্গের মানুষ অঙ্গে ধুয়ে, ঘুরে মলাম দেশে দেশে, পাণ্ডু বলে দিন ফুরাল, চরণ পাব কিসে।।

১৮। আল্লার নাম কর দম বদমে।।

আল্লার নাম কর দম বদমে।। হল নফি এজবাত নিজ নামে।। নাম করিলে উদ্ধার হব, আল্লা পাব কোন কামে।। শুনি বার বুরুজে, কোন বুরুজে কিসে থাকে কি নাম ধরে, বরজোখ ধ্যানে রূপ দেখা যায়, মঞ্জিল আর মোকামে।। মলকুত-মোকামে, ছিয়া ছফেদ লাল জরদে চার রং ধরে, অতুলনা মুরশিদের রূপ মাখা আছে আদমে।। রং দেখি ধ্যানে; অধর চাঁদকে।। ধরা যাবে কোন সাধনে, সাধন সন্ধান বল, বলি সাধুর কদমে।। সিদ্ধি হবে সাধনে, খোদা প্রাপ্তি কিসে হবে, ভজন বিনে, পাণ্ডু বলে ভজন আল্লার কলমে আর আলমে।।

১৯। কি সাধনে আল্লাতালা পাই।।

কি সাধনে আল্লাতালা পাই।। সাধন ভজন ভুলে দিন গেল ভাই।। সন্ন্যাসী হইয়ে কেউ, সর্বত্যাগী হল কেউ, সাঁই গো, শুনি সেও ভ্রমে ভুলে ফিরিছে সদাই।। ঘড় ছেড়ে বনে যায়; রিপু তার সঙ্গে রয় সাঁই গো; বনে গেলে আল্লা পাব, এখানে কি নাই।। আমি কোথায় সে কোথায়, কোথা গেলে তারে পাই সাঁই গো, ভেবে দেখি দেহ ছাড়া নাহি কোন ঠাঁই।। নূরে আছে নিরাকার, জেনে সাধ্য কর তার, মন রে পাণ্ডু বলে দিন গেল, আর হবে নাই।।

২০। আল্লা খুশী হবে কোন কামে।।

আল্লা খুশী হবে কোন কামে।। সাধু গুরু দয়া করে বল এ গোলামে।। রোজা ও নামাজ করি, ভাল হয় আপনারই সাঁই গো, নেক কামে বেহেস্তে যে দিবেন আদমে।। খয়রাত যাহা করি, সেহ নেকী আপনারই হায় গো, আত্মসুখ জন্য আল্লা ডাকি দমে দয়ে।। সাধনে অটল হই, খোদা সাথে মিশে যাই সাঁই গো, গোলামী কি তাতে হয়; খোদার কদমে।। যেই হয় গুরু কাজি, আল্লা তাহে হয় রাজি, সাঁই গো, পাণ্ডু বলে মন তুমি মজ গুরু প্রেমে।।

২১। ছাদেকী আশকে হয় সতী।।

ছাদেকী আশকে হয় সতী।। রূপ দেখে পাগল হয় কুলের কুলবতী।। কুলেতে সে দিয়া হাই, এলাহির জাতে যায় সাঁই গো, জীবে তারে নিন্দা কয়, থাকে সে খুশীতি।। সে লয়েছে স্কন্ধে ঝুলি, পেয়েছে কলঙ্কের ডালি, সাঁই গো, লোকে তারে গালি দেয়, পারেনা ভুলিতি।। আশকে উদাস হয়, গুরুপদে মন দেয় সাঁই গো, পীরিতি পাগলের প্রায়, এই তার গতি।। ভজন সাধন ভাই, মুরশিদের কদম তার সাঁই গো, শমনেতে পারে নাই, মৃত্যুকালে ছুতি।। পাণ্ডু বলে ওরে মন, ভজ আল্লা নিরঞ্জন, সাঁই গো, সাঁই, হিরুচাদের চরণ হবে সাথের সাথী।।

২২। আদমেতে আল্লা আছে মিলে।।

 আদমেতে আল্লা আছে মিলে।। আলা কুল্লে সাইন মেহিত কোরানেতে বলে।। মোকাম মঞ্জিল ভাই, দেহেতে দিয়াছে সাঁই হায় গো, দেহ ছাড়া আল্লা জানে শয়তানী ভোলে।। যে ভাবেতে আল্লা সাঁই, আদমেতে আছে ভাই, হায় গো, না জেনে কিনার নাই, বন্দেগী করিলে।। দলিল পড়িয়া ভাই, মৌলভী হইল তায় হায় গো, মনেতে ভেবেছে এই, বেহেস্তে যাবে চলে।। ইঞ্জিল পড়িয়া কেউ, সর্দ আদমি হল সেও, হায় গো, মোর দিন ভাল বলে, ডঙ্কা মেরে চলে।। ভাগবৎ পড়ে কেউ, পণ্ডিত হল সেও হায় গো, বলে সেও স্বর্গে যাবে।। হিন্দু লোকের দলে।। সেই স্বর্গপুরী ভাই, হাতে ধরা কারো নাই হায় গো, নাচানাচি করে তাই, পোলো গোলমালে।। দেহ চিনে সাঁই ধর, পার পাবা পারাবার, হায় গো, গুরুর চরণ ধর, পাণ্ডু কেঁদে বলে।।

২৩। খোদার আশকী যেই হবে।।

 খোদার আশকী যেই হবে।। ষোল আনা এক তোলা ওজন হইবে।। ভবের ওজন ভাই, রতি হবে ঠিক তাই হায় গো, বে ওজন মাল সেই খোদা নাহি লবে।। ওজনের মূল এই, এক তোলা জান ভাই, হায় গো, কিসে হয় তোলা ঠিক, জানিয়া লইবে।। এক তোলা বাটখারা, দেখ সে কেমন ধারা হায় গো, সের মণ কাঁচা পাকা তোলা ঠিক রবে।। যথায় যে ওজন হয় তোলা কভু নড়ে নাই, হায় গো, শরিয়ত মারেফাত তাহাতে জানিবে।। ভবে যত কারবার, করিবারে পরওয়ার, হায় গো, খাস ভাণ্ডারের তোলা ভেঙ্গে দেয় সবে।। অচিন সে তোলা ভাই, ইমান আমান তাই হায় গো, তাহার ওজন সাঁই কবুল করিবে।। হীন পাণ্ডু কেঁদে কয়, সত্য করে বলি ভাই হায় গো, ভজন সাধন ভাই তোলাতে হইবে।।

২৪। সহজে কি আল্লাতালা পাবে।।

সহজে কি আল্লাতালা পাবে।। মায়া কেটে দয়ার দেল আগে বানাইবে।। আল্লাতালা দয়াময়, দয়া ভিন্ন পাবা নাই হায় গো, দয়াতে যে ধর্ম আছে, সকলে জানিবে।। মাতা পিতা দেখ ভাই, মেরে ধরে বিদ্যা দেয় হায় গো, মায়া করে নাহি মারে বিদ্যা কোথা পাবে।। আল্লাতালা সেই মতে, এমান বুঝিয়া নিতে; হায় গো, কুলমান মেরে তায়, বেহাল বানাবে।। জানে মালে কষ্ট দিয়ে, এমান বুঝিবে ভেয়ে, হায় গো, থাকে যদি সই হয়ে তাকে ধরা দিবে।। পা বলে ওহে সাঁই, দয়া দেল আগে চাই হায় গো, যাহা কর হবে তাই, আমার নছিবে।।

২৫। আল্লা পাবে সত্য প্রেমি হলে।।

আল্লা পাবে সত্য প্রেমি হলে।। সূর্যের ধিয়ানে যমন রয়েছে কমলে।। জলেতে কমল রয়, স্বভাব তাহার হয় সাঁই গো, বিকশিত সূর্যোদয়ে মুদিত অস্ত গেলে।। যে দিকে সুরুজ চলে কমল সেই দিকে হেলে সাঁই গো, ফেরেনা সে কোন কালে ঝড়ি তুফান হরে।। তেমনই আশকদার পতিকে করেছে সার সাঁই গো, যদি হয় ছারেখায়, তবু নাহি টরে।। মনরে কমল হও, গুরুপদে মন দাও সাঁই গো, ভব কূলে কালি দাও, ভুলোনা কারো ভোলে।। হীন পাণ্ডু আলাঝালা, না জানে পীরিতী জ্বালা সাঁই গো, মেলে কি মালেক আল্লা মূঢ়ার কপালে।।

২৬। যে ভাবে ফিকির করে সাঁইজি মোরে বানিয়েছে মানব লীলে।।

যে ভাবে ফিকির করে সাঁইজি মোরে বানিয়েছে মানব লীলে।। এই লীলা কী চমৎকার, ভেদ বোঝা ভার, নিজরূপ মিশাইলে।। নিরাকারে আকার মিলে, সাঁই নিরলে; দ্বিদলেতে বারাম দিলে, আপন লীলাতে ভুলে, সাঁই পাতালে পদ্ম ফুলে মধু খেলে।। লীলা ছলে সাঁই মিশিলে, ধোকা দিলে জীবেরে ধরিল কালে, ধোকার টাটি পরিপাটি, কুলের লাটি, কেন জীবের হাতে দিলে।। জীবের মনে কুটী নাটি ধুলা মাটি, কত জনার খাওয়াইলে, কারে করে উদাসী তীর্থবাসী, বনে বনে ঘুরাইলে।। গোসাঁই হিরুচাঁদে বলে, ভাব না জেনে, দিন হারালে গোলেমালে, যাঁর ভাবে চরণ মিলে, তারে ভুলে পাণ্ডু মিছে ঘুরে মনে।।

২৭। নূরের খবর জানি নাই।।

নূরের খবর জানি নাই।। আল্লার নূরে নবীর জন্ম শুনতে পাই।। নবীর নূরে ছারে জাহান, নূর ছাড়া আর কিছুই নাই।। নূর কোন পাত্তরে খণ্ড করলেন দয়াময়, খণ্ড করে আঠার হাজার আল্লার আলম গঠলেন তায়, ইনছান হারান বৃক্ষ আদি, নূরে পয়দা করলেন সাঁই।। আদমের দেহে নবীর নূর সব বর্ত রয়, আবার কোন নূরেতে কোহ্ তুরেতে, মুছা নবী দিদার পায়, নূর তাজেল্লার তাপে জ্বলে, কোত্তুর পাহাড় পুড়ে যায়।। নূর চিনিলে আল্লা নবী পাওয়া যায়, এই দেহের মাঝে সেই নূর আছে, মুরশিদ ধরে জানতে হয়, হিরু চাঁদ কয় অধীন পাণ্ডু, নূর বিনে তোর উপায় নাই।।

২৮। এই মানুষে নবীর নূরে ঝলক দেয়।।

এই মানুষে নবীর নূরে ঝলক দেয়।। দেহ খুঁজলে পাওয়া যায়। ছিয়া ছফেদ লাল জরদে, নূরের আসন ঘিরে রয়।। মোকাম লাহুত-নাছুত-মলকুত জবরুত চারি হয়, চার মোকামে মঞ্জিল দ্বারে, গুপ্ত বেশে কিরণ দেয়, লা মোকামে নূরের আসন, হাহুতে নহবত বাজায়।। নূরে হস্তপদ নাসা কর্ণ কিছুই নাই, অঙ্গহীন সে আপন জোরে বেগ ধরে ত্রিবেণী যায়, সেই না ঘাটে পদ্ম ফুলে ভ্রমর হয়ে মধু খায়।। বড় যত্ন করে ঐ ভ্রমরকে ভজতে হয়, কিসে যত্ন হবে তার, এও ঠেকিলাম বিষম দায়, অধীন পাণ্ডু বলে নূরের যত্ন কেবল জানেন ফাতেমায়।।

২৯। হায় আল্লার কোদরতে।

হায় আল্লার কোদরতে। সব পয়দা করলেন জগতে।। কোদরত কোদরত সবাই বলে, পারলাম না তাই জানিতে।। কোদরত কয় কারে, কিসে থাকে আল্লার কোদরত, কি রং ধরে, চরণ ধরি বিনয় করি, সে পার ভাই বলিতে।। যখন সাঁই নিরাকারে, ভেসেছিলেন বারিতালা ডিম্বভরে, আছমান জমিন কোদরতে হয়, ডিম্ব হল কিসেতে।। নিরঞ্জন নীরে, হজরত নবী পয়দা হলেন, আল্লার নূরে, নূর নীরেতে মালেক আছে, কোদরত আছে কার সাথে।। সাঁই হিরুচাঁদ বলে, আল্লার কোদরত না চিনে তুই ভজলি কারে, পাণ্ডু বলে ভ্রমে ভুলে বেড়ালি পথে পথে।।

৩০। মুরশিদ ভজিলে, আল্লা পাওয়া যায় ভবে।।

মুরশিদ ভজিলে, আল্লা পাওয়া যায় ভবে।। সত্য সত্য সত্যগুনি, কোরানে বলে।। অলিয়েম মোরশেদা বলে, কোরানে সাঁই খবর দিলে, মালেক মোক্তার, ধর মুরশিদ, ভজ মুরশিদ, আছে ঐ কলে।। আছমান সপ্ত তালার পরে, আছে সত্তর পরদা ঘিরে, সিংহাসন পর, এমন অমূল্য মেলে, বান্দার কপালে।। খালাকা আদামা বলে, আলো-ছুরাতিহি লেখে, আদম রূপে সাঁই, পাঞ্জু বলে ঝলক দিচ্ছে, এসে দ্বিদলে।।

আরও পড়ুন:

“ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহের পদাবলী : ১ম পর্ব”-এ 4-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন